Class 10 Geography
Madhyamik Geography
দশম শ্রেণী ভূগোল প্রশ্নোত্তর
Class Geography Model Activity Task 2022
৩.১ কুয়াশাকে কেন অধঃক্ষেপণ বলা হয় না ?
উ: মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে মেঘ থেকে জলীয় বাষ্প ঘনীভবনের মাধ্যমে কঠিন ও তরল অবস্থায় ভূপৃষ্ঠে নেমে এলে তখন তাকে অধঃক্ষেপণ বলে। কিন্তু কুয়াশা ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন অঞ্চলের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে সৃষ্টি হয়, মেঘ থেকে ঘনীভবনের মাধ্যমে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে নেমে আসে না। তাই কুয়াশা অধঃক্ষেপণের অন্তর্ভুক্ত নয় ।
৩.২ বিশ্ব উষ্ণায়নের দুটি প্রভাব উল্লেখ করাে ।
উ: গ্রিন হাউস প্রভাবের কারণে বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটছে এবং এর প্রভাবেই -
i) মেরু অঞ্চলের বরফ ও পার্বত্য হিমবাহ গলছে। ফলস্বরূপ সমুদ্র জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ii) শস্য উৎপাদনের হ্রাসবৃদ্ধি ও কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটছে।
৪. কীভাবে কোনাে একটি স্থানের উচ্চতা সেই অঞ্চলের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করে ?
উ: বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার ওপর উচ্চতার প্রভাব: উষ্ণতার নিয়ন্ত্রণে উচ্চতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ট্রপোস্ফিয়ারে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উষ্ণতা ৬.৪° সেলসিয়াস/কিলোমিটার হারে হ্রাস পায় - একে ল্যাপস রেট বলে। সাধারণভাবে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিকিরণের প্রভাব কমে, ধূলিকণার পরিমাণ কমে এবং বায়ুর চাপও কম হয়। তাই উচ্চতা বৃদ্ধিতে উষ্ণতা হ্রাস পায়। এই কারণেই অধিক উচ্চ অঞ্চলের উষ্ণতা কম হয়।
যেমন: শিলিগুড়ি অপেক্ষা দার্জিলিং এর উষ্ণতা কম।
৫. চিত্রসহ উষ্ণতার তারতম্যের ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও ।
উষ্ণতার তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে বায়ুমণ্ডলকে প্রধানত সাত ভাগে ভাগ করা হয়। এই সাতটি বায়ুমণ্ডলের স্তর সম্পর্কে নিম্নে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হল চিত্রসহ -
i) ট্রপোস্ফিয়ার:-
অবস্থান:- ভূপৃষ্ট থেকে ১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত ঊর্ধ্বের বায়ুস্তরকে ঘনমণ্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার বলে।
বৈশিষ্ট্য:- এই স্তরের বায়ুতে ধূলিকণা, জলীয় বাষ্প, কুয়াশা, মেঘ প্রভৃতি থাকে। এই জন্য এই স্তরে ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত প্রভৃতি ঘটনাগুলি ঘটতে দেখা যায়।
ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বে ৩ কিমি পর্যন্ত অংশে উষ্ণতার হ্রাসবৃদ্ধি কিছুই হয় না বলে একে ট্রপোপজ বলে।
ii) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার:-
অবস্থান:- ট্রপোস্ফিয়ারের ওপরের ১৮ - ৫০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বা শান্তমন্ডল বলে।
বৈশিষ্ট্য:- স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে ধূলিকণা, মেঘ প্রভৃতি না থাকায় এখানে ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত প্রভৃতি প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটে না। তাই এই স্তরে দ্রুতগতিসম্পন্ন জেট বিমানগুলি এই স্তরে চলাচল করে ।
ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫০ - ৫৫ কিমি ঊর্ধ্বে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার ও মেসোস্ফিয়ার সীমারেখা স্ট্র্যাটোপজ নামে পরিচিত।
iii) মেসোস্ফিয়ার:-
অবস্থান:- স্ট্র্যাটোপজের উপরের স্তরে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০ কিমি উচ্চতাযুক্ত স্থান পর্যন্ত যে অংশের উষ্ণতা কমতে থাকে তাকে মেসোস্ফিয়ার বলে।
বৈশিষ্ট্য:- এই স্তরের তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে, এবং মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা উল্কা এই স্তরেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের শেষপ্রান্তে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার ও মেসোস্ফিয়ারের সীমারেখা মেসোপজ নামে পরিচিত ।
iv) আয়নোস্ফিয়ার:-
অবস্থান:- মেসোপজের পর প্রায় ৫০০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত এই স্তরের বায়ু আয়নিত অবস্থায় রয়েছে। তড়িৎযুক্ত কণা বা আয়নের উপস্থিতির জন্য এই স্তরকে আয়নোস্ফিয়ার বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য:- এই স্তরের উপাদানগুলি আয়নিত অবস্থায় থাকে বলে ভূপৃষ্ঠে সৃষ্ট বেতার তরঙ্গগুলি এই স্তরেই প্রতিহত হয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে, ফলে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে বেতার সংযোগ রক্ষা করা যায়। এছাড়াও এই স্তরে মেরুজ্যোতি মেরুপ্রভা দেখা যায়।
v) এক্সোস্ফিয়ার:-
অবস্থান:- আয়নমণ্ডলের ওপরের দিকে ৬০০ - ১৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হালকা বায়ুস্তরকে এক্সোস্ফিয়ার বা বহিঃমন্ডল বলে।
বৈশিষ্ট্য:- এই স্তরে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়। এখানে বায়ুর সব উপাদানই আয়নিত অবস্থায় থাকে।
ম্যাগনেটোস্ফিয়ার:-
অবস্থান:- এক্সোস্ফিয়ারের ওপরে ১,৫০০ - ১০,০০০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত এই স্তর ।
বৈশিষ্ট্য:- এই স্তরটি প্রায় বায়ুশূন্য। এই স্তরে বায়ুমণ্ডলকে বেষ্টন করে একটি প্রোটন ও ইলেকট্রনের চৌম্বকক্ষেত্র আছে ।
Class 10 Geography
Madhyamik Bhugol
মাধ্যমিক ভূগোল প্রশ্নোত্তর
Class 10 Model Activity Task
Model Activity Task PDF Download
class10geography madhyamik model activity task

0 Comments
Please do not enter any spam link in the comment box.