Class 11 Nutrition.
Nutrition question answer.
Class 11 nutrition suggestion.
Balanced Diet.
Food and Nutrients.
Food Faddism
খাদ্য ও পরিপোষক এর সম্পর্ক।
সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্য।
আদর্শ খাদ্য দুধ।
![]() |
| Class 11 nutrition science |
খাদ্য ও পরিপোষকের মধ্যে সম্পর্ক কি?
অথবা, "সব পরিপোষকই খাদ্য কিন্তু সব খাদ্য পরিপোষক নয়" - উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর: খাদ্য ও পরিপোষকের মধ্যে নিগূঢ় সম্পর্ক আছে। যে সকল আহার্য সামগ্রী পাচিত হয় এবং শক্তি উৎপন্ন করে তাদের খাদ্য বলে। অপরপক্ষে যে সকল আহার্য সামগ্রী পাচিত না হয়ে সরাসরি পুষ্টিতে অংশগ্রহণ করে এবং শক্তি উৎপন্ন করতে পারে বা নাও পারে, তাদের পরিপোষক বলে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট পাচিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে, তাই এরা খাদ্য। আবার এই সকল খাদ্যের পাচিত সরল উপাদান, যেমন - গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ, গ্যালাকটোজ, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল সরসরি পুষ্টিতে অংশগ্রহণ করে এবং শক্তি উৎপন্ন করে, তাই এরা পরিপোষকও। কিন্তু ভিটামিন ও খনিজ লবণ সরাসরি পুষ্টিতে অংশগ্রহণ করলেও শক্তি উৎপন্ন করে না, তাই এরা শুধু পরিপোষক। এই কারণে বলা হয় সব পরিপোষকই খাদ্য কিন্তু সব খাদ্য পরিপোষক নয়।
খাদ্য ও পরিপোষকের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
খাদ্য:
i. যে সকল আহার্য সামগ্রীর পরিপাকের প্রয়োজন হয় এবং জীবদেহের গঠন, ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধি এবং তাপ উৎপাদনে অংশ নেয়, তাদের খাদ্য বলে।
ii. খাদ্যের পরিপাক প্রয়োজন।
iii. খাদ্য হল দেহ গঠনকারী, শক্তি উৎপাদনকারী বস্তু।
iv. সব খাদ্য পরিপোষক নাও হতে পারে।
v. খাদ্য সাধারণত প্রাণীরা গ্রহণ করে।
vi. খাদ্য শক্তি উৎপাদনে অংশ নেয়।
vii. কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট ইত্যাদি হল খাদ্য।
পরিপোষক:
i. খাদ্য পরিপাকের পর খাদ্যের যে অংশ দেহের পুষ্টিতে ব্যবহৃত হয়, তাকে পরিপোষক বলে।
ii. পরিপোষকের পরিপাক প্রয়োজন হয় না।
iii. পরিপোষক হল জীবের মৌলিক ধর্ম পালনকারী বস্তু।
iv. সকল পরিপোষকই খাদ্য।
v. পরিপোষক সাধারণত উদ্ভিদরা গ্রহণ করে।
vi. পরিপোষক শক্তি উৎপাদনে অংশ নিতেও পারে আবার নাও পারে।
vii. গ্লুকোজ, অ্যামাইনো অ্যাসিড, গ্লিসারল ইত্যাদি হল পরিপোষক।
(বি.দ্রঃ- এই পার্থক্যটি ছক করে লিখবে।)
খাদ্য সংক্রান্ত ভ্রান্ত ধারণাগুলি লেখো।
উত্তর: আমাদের মধ্যে অনেকের মনেই খাদ্য বিষয়ে কয়েকটি ভ্রান্ত বা ভুল ধারণা রয়েছে। যেগুলি কুসংস্কার, বিজ্ঞানের সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কযুক্ত নয়। সেইরকমই কয়েকটি ভ্রান্ত ধারণা নিম্নে উল্লেখ করা হল -
i. রসুন খেলে স্তন্যদাত্রী মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধি পায়। (প্রকৃতপক্ষে অত্যধিক রসুন খেলে মাতৃদুগ্ধের স্বাদ ও গন্ধ পাল্টে যায়)
ii. লাল রঙের সবজি খেলে দেহে রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যেমন বিট খেলে শরীরে রক্ত হয়।
iii. লবণ ছাড়া কাঁচা শসা বিষাক্ত।
iv. দই খেলে ঠান্ডা লাগে তাই রাত্রি বেলা দই খাওয়া অনুচিত।
v. বয়স্কদের দুধ খাওয়ায় প্রয়োজন নেই। (সব বয়সী ব্যক্তিদের জন্যই দুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন)
vi. পেঁপে খেলে গর্ভবতী মায়েদের গর্ভপাত হয়।
vii. কাঁচা পাউরুটি থেকে টোস্টের ক্যালোরি মূল্য কম।
viii. অধিক জল পান করলে মানুষ মোটা হয়। (প্রতিদিন অন্তত 8 গ্লাস জল প্রত্যেকের পান করা উচিত।)
ix. মাখন তোলা দুধ থেকে কোনপ্রকার শক্তিমূল্য পাওয়া যায় না।
দুধকে সুষম খাদ্য না বলে আদর্শ খাদ্য বলা হয় কেন?
অথবা, বর্তমানে দুধকে সুষম খাদ্য বলা হয় না কেন?
উত্তর: যে সমস্ত খাদ্যের মধ্যে খাদ্যের ছয়টি উপাদান অর্থাৎ কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং জল উপযুক্ত পরিমাণে উপস্থিত থাকবে তাকেই সুষম খাদ্য বলা হবে। পূর্বে দুধকে সুষম খাদ্য বলা হত। কিন্তু বর্তমান যুগে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা গেছে যে দুধের মধ্যে ভিটামিন C ও লোহার পরিমাণ উপযুক্ত পরিমাণে থাকে না। তাই দুধকে সুষম খাদ্য বলা হয় না। তবে, দুধের কতকগুলি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের জন্য দুধকে আদর্শ খাদ্য বলা হয়। যেমন -
i. দুধের মধ্যে শিশুদের প্রয়োজনীয় সকল খাদ্য উপাদানই সঠিক পরিমাণে রয়েছে।
ii. দুধ শিশুদের দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধিসাধন করে এবং দেহের উষ্ণতা বজায় রাখে।
iii. দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে।
iv. দুধ শিশুর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
সুষম খাদ্য কাকে বলে? সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর:
সুষম খাদ্য: ব্যক্তিবিশেষে পুষ্টিসাধন, স্বাভাবিক বৃদ্ধি, কর্মশক্তি উৎপাদন, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, দৈহিক ক্ষয়পূরণ ইত্যাদির জন্য প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং জল - এই ছয়টি উপাদান নির্দিষ্ট আনুপাতিক মিশ্রণে প্রস্তুত যে খাদ্য থেকে উপযুক্ত পরিমাণে ক্যালরি পাওয়া যায়, তাকে সুষম খাদ্য বলে।
সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্য: সুষম খাদ্যের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, সেই বৈশিষ্ট্যগুলি নীচে আলোচনা করা হল -
i. সুষম খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করবে।
ii. সুষম খাদ্যে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাটের আনুপাতিক ভাগহার 7:1:2 হবে।
iii. সুষম খাদ্য দেহে তাপশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
iv. সুষম খাদ্য দেহের গঠনমূলক ক্রিয়াকলাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
v. দেহের অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি করবে।
vi. সুষম খাদ্য দেহের কলাকোশের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।


0 Comments
Please do not enter any spam link in the comment box.