![]() |
| মাধ্যমিক ভূগোল |
Madhyamik Geography Long Question.
Madhyamik Exam Preparation. Madhyamik Geography Suggestion. Madhyamik geography notes. Class 10 notes best quality.
নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ
উচ্চ গতিতে নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপগুলির চিত্রসহ বর্ণনা দাও
অথবা, নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপগুলির চিত্রসহ বর্ণনা দাও।
অথবা, নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত যে কোন তিনটি ভূমিরূপ চিত্রসহ আলোচনা করো।
উত্তর:
নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ:-
উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল ক্ষয়সাধন। যার ফলে নদী গর্ভে বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপ গড়ে ওঠে। সেই ভূমিরূপ গুলি হল I ও V আকৃতির উপত্যকা, ক্যানিয়ন, জলপ্রপাত, মন্থকূপ বা পটহোল, আবদ্ধ বা শৃঙ্খলিত শৈলশিরা ইত্যাদি। এই সমস্ত ভূমিরূপগুলি সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল -
(i) I ও V আকৃতির উপত্যকা:- উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহের ভূমির ঢাল বেশি হওয়ায় নদীর প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়। এবং নদীবাহিত প্রস্তরখন্ডগুলি ক্রমাগত নদীর তলদেশে আঘাত করে অবঘর্ষ পদ্ধতিতে ক্ষয় করে। এই সময় নদীর নিম্ন ক্ষয় খুব বেশি হয়, কিন্তু পার্শ্বক্ষয় খুব কম হয় যার ফলে নদী উপত্যকার আকৃতি 'I' আকৃতির মতো হয়। অতি গভীর ও সংকীর্ণ এই ভূমিরূপ 'I' আকৃতির উপত্যকা গিরিখাত নামে পরিচিত।
নদী উপত্যকা বিবর্তনের পরবর্তী অবস্থায় নদী উপত্যকার পার্শ্বস্থ অংশ আবহবিকার, জলপ্রবাহ, ধ্বস প্রভৃতির কারণে ক্ষয় হয়ে ক্রমশ বিস্তৃত হতে থাকে যার ফলে 'I' আকৃতির উপত্যকা ধীরে ধীরে 'V' আকৃতিতে পরিণত হয়।
![]() |
| চিত্র: 'I' ও 'V' আকৃতির উপত্যকা |
উদাহরণ: নেপালের কালীগণ্ডকী গিরিখাত পৃথিবীর গভীরতম গিরিখাত।
(ii) গিরিখাত ও ক্যানিয়ন:- নদী উপত্যকা অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ হলে তাকে গিরিখাত বলে। গিরিখাতে উপত্যকার বিস্তার অপেক্ষা গভীরতা অত্যন্ত বেশি হয়। উচ্চ ও শুষ্ক অঞ্চলের গিরিখাত হল ক্যানিয়ন। উচ্চ ও শুষ্ক অঞ্চলে প্রবাহিত নদী অবঘর্ষ পদ্ধতিতে দ্রুত নিম্নক্ষয় করে কিন্তু বৃষ্টির অভাবে পার্শ্ব ক্ষয় বা পাড়ের ক্ষয় হয় না বলে উপত্যকা অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ হয়। পার্বত্য অঞ্চলে নদী ক্রমাগত নিম্নক্ষয়ের ফলে গিরিখাত সৃষ্টি করে। শুষ্ক অঞ্চলের এরূপ সংকীর্ণ ও গভীর উপত্যকাই হল ক্যানিয়ন।
![]() |
| চিত্র: গিরিখাত ও ক্যানিয়ন |
উদাহরণ: কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন হল পৃথিবী বিখ্যাত ক্যানিয়ন তাছাড়া পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার শিলাবতি নদীতেও এরূপ ক্যানিয়ন সৃষ্টি হয়েছে, যা গণগনি নামে পরিচিত।
(iii) জলপ্রপাত:- পার্বত্য প্রবাহে নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর উপর-নীচে অনুভূমিক বা আড়াআড়িভাবে থাকলে, কঠিন শিলাস্তর পার্শ্ববর্তী কোমল শিলাস্তরের তুলনায় কম ক্ষয় হওয়ায় উঁচু হয়ে থাকে এবং নদীস্রোত সেই খাড়া ঢাল থেকে বিপুল বেগে নিচের কোমল শিলাস্তরে পড়ে জলপ্রপাতের সৃষ্টি করে।
উদাহরণ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নায়াগ্রা জলপ্রপাত।
![]() |
| চিত্র: জলপ্রপাত |
(iv) মন্থকূপ বা পট হোল:- নদীর গতিপথে কোমল শিলা অবস্থান করলে অবঘর্ষ পদ্ধতিতে শিলাখণ্ডের আঘাতে গর্তের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে সেই গর্তের মধ্যে জল চক্রাকারে প্রস্তরখন্ড সহ ঘুরতে ঘুরতে করে গর্তগুলিকে আরো গভীর করে একই মন্থকূপ বা পটহোল বলে। অসংখ্য পট হোল একসাথে অবস্থান করলে তাকে পট হোল কলোনি বলে।
উদাহরণ: হিমালয়ের নদীসমূহ যেমন তিস্তা, ভাগীরথী, অলকানন্দা ইত্যাদি নদীতে পট হোল দেখা যায়।
![]() |
| চিত্র: মন্থকূপ বা পট হোল |
(v)আবদ্ধ বা শৃঙ্খলিত শৈলশিরা :- পার্বত্য অঞ্চলের নদী পথের বাধাস্বরূপ শৈলশিরা বা পাহাড় থাকলে তা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য নদী এঁকে বেঁকে প্রবাহিত হয় এবং শৈলশিরা গুলিকে তখন দূর থেকে উপত্যকার মধ্যে আবদ্ধ অবস্থায় আছে বলে মনে হয় একে আবদ্ধ বা শৃঙ্খলিত শৈলশিরা বলা হয়।
উদাহরণ: উচ্চ হিমালয়ের অধিকাংশ নদীতেই শৃঙ্খলিত শৈলশিরা দেখা যায়।
tags:
madhyamik bhugol
class 10 geography
geography notes
river erosion
wbbse
landforms created by river
landforms created by river erosion






0 Comments
Please do not enter any spam link in the comment box.