Class 11 Nutrition Long Question Answer
মানবদেহে জলসাম্য রক্ষার বিভিন্ন পদ্ধতি
জলসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিগুলির প্রভাব
দেহের জলসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিগুলির প্রভাব আলোচনা করো।
অথবা,
মানবদেহে জলসাম্য রক্ষার বিভিন্ন পদ্ধতিগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর:-
বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে মানবদেহে জলসাম্য নিয়ন্ত্রিত হয়। সেগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল --
1. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির প্রভাব:-
আমাদের দেহে অবস্থিত বিভিন্ন প্রকার অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি দেহের জলসাম্য রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই সমস্ত গ্রন্থিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল -
i. পিটুইটারি গ্রন্থি
ii. অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
iii. থাইরয়েড গ্রন্থি
i. পিটুইটারি গ্রন্থির প্রভাব:- পিটুইটারির পশ্চাৎ খন্ড নিঃসৃত অ্যান্টি - ডাই - ইউরেটিক হরমোন বা ADH দেহের জলসাম্য রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
a. এই হরমোনের ক্ষরণ দেহের জলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
b. এই হরমোন বৃক্কিয় নালিকার দূরবর্তী অংশে জলের পুনর্বিশোষণ বৃদ্ধি করে, ফলে মুত্র উৎপাদনের পরিমাণ কমে যায়।
c. ADH হরমোন অভাবে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস রোগ সৃষ্টি হয়।
d. অতিরিক্ত জল রেচনের ফলে দেহে জলের পরিমাণ কমে গিয়ে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়। এই ডিহাইড্রেশন ADH হরমোনকে উদ্দীপিত করে। ফলে ADH হরমোন ক্ষরণ বেড়ে গিয়ে জলের পুনর্বিশোষণ বৃদ্ধি করে।
ii. অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির প্রভাব:- অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির দুটি অংশ যথা অ্যাড্রিনাল কর্টেক্স এবং অ্যাড্রিনাল মেডালা জলসাম্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
A. অ্যাড্রিনাল কর্টেক্স:-
অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির কর্টেক্স অংশ থেকে নিঃসৃত অ্যালডোস্টেরন হরমোন জলসাম্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
a. এই হরমোন বৃক্কের নালিকার সোডিয়াম আয়নের পুনঃশোষণকে বৃদ্ধি করে এবং পরোক্ষভাবে জলের পুনঃশোষণকে বাড়ায়।
b. এই হরমোন অ্যান্টি - ডাই - ইউরেটিক(ADH) হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং তার দ্বারা পরোক্ষভাবে জলের পুনঃশোষণকে বাড়ায়।
c. মানবদেহে রক্তরসের পরিমাণ অ্যালডোস্টেরন হরমোন ক্ষরিত হয়, যার ফলে রক্তের আয়তন ও রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।
d. অ্যালডোস্টেরন হরমোন অন্তঃকোষীয় এবং বহিঃকোষীয় তরলের মধ্যে জলের স্বাভাবিক বণ্টনে সাহায্য করে।
B. অ্যাড্রিনাল মেডালা:- অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির মেডালা অংশ থেকে নিঃসৃত অ্যাড্রিনালিন বা এপিনেফ্রিন হরমোন বৃক্কিয় সংবহন কমায়, এর ফলে মানবদেহে কম পরিমাণে মূত্র উৎপন্ন হয়।
iv. থাইরয়েড গ্রন্থি:- কণ্ঠনালীর দুইপাশে অবস্থিত থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন মূত্রের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে দেহে জলসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।
অন্যান্য প্রভাব:-
2. বৃক্কের প্রভাব:-
i. আমাদের দেহের প্রয়োজনীয় জল বৃক্কের মাধ্যমে মূত্র হিসেবে দেহ থেকে বেরিয়ে যায় এবং দেহে জলসাম্য বজায় থাকে।
ii. যদি কোনো কারণে বৃক্কদ্বয় তাদের কার্যক্ষমতা হারায় তাহলে অতিরিক্ত জল দেহে জমা হতে থাকে এবং এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশ তথা হাত, পা ফুলে শোথ রোগের সৃষ্টি হয়।
3. স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রভাব:-
হাইপোথ্যালামাস এবং ভ্যাসোমিটার তন্ত্র জলসাম্য নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
i. হাইপোথ্যালামাস পিটুইটারি গ্রন্থির পশ্চাদাংশ থেকে অ্যান্টি - ডাই - ইউরেটিক হরমোন ক্ষরণে সহায়তা করে, যা পরোক্ষভাবে জলের পুনঃশোষণকে বাড়ায়।
iii. শুষ্কতার জন্য দেহের অভিস্রবণীয় ঘনত্ব বাড়ে, তখন হাইপোথ্যালামাসের তৃষ্ণাকেন্দ্র উদ্দীপিত হয় এর ফলে এমন এক অবস্থার সৃষ্টি হয় যার কারণে আমরা জল পান করতে বাধ্য হই।
iii. ভ্যাসোমিটারতন্ত্র দেহের মধ্যে রক্তবাহগুলির সংকোচন ও প্রসারণ ঘটিয়ে রেনাল সংবহন নিয়ন্ত্রণ করে। এইভাবে দেহের জলসাম্য রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
4. তৃষ্ণার প্রভাব:- দেহে জলের ঘাটতি দেখা দিলে আমাদের লালা নিঃসরণ হ্রাস পায়। ফলে মুখের ভিতরের এবং গলবিলের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি শুকিয়ে যায়, তখন মুখগহ্বর থেকে সেই উদ্দীপনা স্নায়ুর মাধ্যম মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশে অবস্থিত তৃষ্ণাকেন্দ্রে পৌঁছায় এবং আমাদের জলপান করার ইচ্ছা জাগে। তখন আমরা জলপান করার মাধ্যমে তৃষ্ণা নিবারণ করি। এইভাবেই জলসাম্য বজায় থাকে।
উপরে আলোচ্য প্রভাবগুলি ছাড়াও আমাদের দেহে জলসাম্য রক্ষায় বায়ুর উষ্ণতা ও আর্দ্রতা, চর্মের গঠন প্রকৃতি, স্বেদগ্রন্থি সংখ্যা প্রভৃতি প্রভাব বিস্তার করে।
water balance nutrition class 11 wbchse

0 Comments
Please do not enter any spam link in the comment box.